পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সম্প্রতি সেনা টহল জোরদার করায় চরম অস্থির হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীরা। নিরাপত্তাবাহিনীর নিয়মিত টহলের ফলে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা, অবৈধ অস্ত্র মজুদ এবং অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষে না গিয়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর কৌশল নিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সেনা টহল বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ে বসবাসরত সাধারণ মানুষ স্বস্তি অনুভব করছে। অপহরণ ও চাঁদাবাজির প্রবণতা কমে আসায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের সমর্থন সেনাবাহিনীর দিকেই ঝুঁকছে।
তবে এই পরিস্থিতিতেই সন্ত্রাসীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। কখনো সেনা অভিযানে ‘নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার’ এমন অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার কখনো আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এসব অপপ্রচার মূলত সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দুর্বল করার কৌশল। যদি পাহাড় থেকে সেনা সদস্য সরিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে সন্ত্রাসীরা পুনরায় অবাধে চাঁদাবাজি, মাদক পাচার ও সশস্ত্র তৎপরতা চালাতে সক্ষম হবে।
স্থানীয় জনগণের ভাষ্যে, ‘সেনা টহল থাকলে আমরা অন্তত শান্তিতে ঘুমোতে পারি। যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা আসলে নিজেরাই সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঢাকতে চায়।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাহাড়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনা টহল অপরিহার্য। অপপ্রচার বা গুজব ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে হলে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকেও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
_লেখক…
এম মহাসিন মিয়া, সাংবাদিক ও লেখক।

