চট্টগ্রামের রাউজানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আয়েশা সিদ্দিকার (৩৮) ওপর হামলা চালিয়েছেন পৌর যুবদলের নেতা মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে তিনি চেয়ার ছুড়ে মারেন এবং অফিসের টেবিল ভাঙচুর করেন।
উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পিআইও কার্যালয়ে এসে কাজ পাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এক মাস আগে অস্ত্রসহ অফিসে প্রবেশ করলে আয়েশা সিদ্দিকা তাকে বের করে দেন। এ ঘটনার জেরে তিনি বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
মঙ্গলবার আবারও কাজের দাবিতে অফিসে গিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যম ছাড়া কাজ দেওয়া সম্ভব নয়—এই কথা শুনেই তিনি ক্ষুব্ধ হন। এরপর অফিসের টেবিলের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারেন, যা গিয়ে পড়ে টেবিলের ওপর, এতে গ্লাস ও টেবিল ভেঙে যায়।
হামলার বিষয়টি স্বীকার করে যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অনেকবার গিয়েছি, কিন্তু আমাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। রাগের মাথায় চেয়ার ছুড়ে মেরেছি।’
হামলার শিকার আয়েশা সিদ্দিকা জানান, এটি পরিকল্পিত হামলা ছিল এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘অলৌকিকভাবে আমি বেঁচে গেছি। শহিদুল ইসলাম আমাকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছিলেন, এবার সরাসরি হামলা চালালেন।’
এ ঘটনায় রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিসান বিন মাজেদ বলেন, ‘সরকারি দপ্তরে এমন হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
