নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক আটটি চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১০ মার্চ) সংস্থার প্রধান কার্যালয় থেকে চার্জশিট অনুমোদনের পর আদালতে দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি মামলাগুলো দায়ের করা হয়। নতুন চার্জশিটে সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের সারসংক্ষেপ
সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কে ছয়টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দপ্রাপ্তরা ওই সুবিধার যোগ্য ছিলেন না, তবে বিশেষ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা প্লট নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা
চার্জশিটে নাম এসেছে শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের ছয় সদস্যের—
- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
- তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়
- মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল)
- বোন শেখ রেহানা
- শেখ রেহানার মেয়ে, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক
- রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক
- রেহানার অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক
এছাড়া, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪ জন কর্মকর্তা এবং রাজউকের বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার নামও চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অন্য দুর্নীতির তদন্ত
গত বছরের ২২ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ৩০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা) বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এর আগে, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগেও অনুসন্ধান চালানো হয়।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীত্ব ছাড়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং এখনো সেখানে অবস্থান করছেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
দুদক সূত্র বলছে, চার্জশিট আদালতে দাখিলের পর মামলাগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাবে। তবে বিচার কবে শুরু হবে এবং আসামিদের অনুপস্থিতিতে কীভাবে বিচার হবে, তা নিয়ে আইনি বিশেষজ্ঞদের মাঝে আলোচনা চলছে।
