রাঙামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতের সড়ক সচল এবং এলাকার স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। এ লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের দুর্ভোগ নিরসন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং চলমান অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংকট সমাধানে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের মধ্যস্থতাকারী দল গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত দলের নেতৃত্বে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়ার থাকার কথা রয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে অনুষ্ঠিত সভায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বেসামরিক প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, পার্বত্য জেলা পরিষদ, সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতি, বাস-ট্রাক মালিক সমিতি, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতিসহ পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর বাধার কারণে সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পর্যটকেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থায় স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। পরিস্থিতির যথাযথ সমাধান না হলে তা আরও জটিল হয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলেও সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সংকট নিরসনে আলোচনার উদ্যোগ
সভায় উত্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং বেসামরিক প্রশাসনের মাধ্যমে সড়ক অবরোধকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে দুই জেলার নিরাপত্তা বাহিনী, জেলা পরিষদ ও বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ মধ্যস্থতাকারী দল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া দলটির নেতৃত্ব দেবেন।
কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের জবাবদিহির বিষয়েও আলোচনা
সাজেক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি এবং অবরোধের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
সভায় জনদুর্ভোগ নিরসন, এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাজেক সড়কের অচলাবস্থা নিরসনে প্রশাসনিক সমন্বয়, কার্যকর আলোচনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন জরুরি। দীর্ঘদিনের এই সংকট কাটিয়ে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ফিরিয়ে আনা গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতি ফিরে পাবে।

