বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা খাগড়াছড়ি জেলার একমাত্র ‘জুলাই শহীদ’ মো. মজিদ হোসেনের নামে রামগড়ে তাঁর নিজ গ্রামের একটি সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার ২ নং পাতাছড়া ইউনিয়নের নাকাপা এলাকায় রসুলপুর সড়কটি এখন থেকে ‘জুলাই শহীদ মজিদ হোসেন সড়ক’ নামে পরিচিত হবে। একই সঙ্গে সড়কটির নতুন নামসংবলিত ফলক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রামগড় উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম। আইনশৃঙ্খলা ও আসন্ন দুর্গাপূজার প্রস্তুতিবিষয়ক সভা শেষে সড়কটির নামকরণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্তে একমত হন।

ইউএনও কাজী শামীম জানান, স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দের মতামত নেওয়ার পর সড়কটির নতুন নামকরণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শহীদ মজিদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁর আত্মত্যাগকে সম্মান জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে রসূলপুর সড়কটি জুলাই শহিদ মজিদ হোসেন সড়ক নামে পরিচিতি পাবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বিন আল জান্নাত, রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজির আলম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক ও সাংবাদিকেরা।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট রামগড় উপজেলার নাকাপা বাজারের পাশে পাতাছড়া রসুলপুর জামে মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে শহীদ মজিদের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তৎকালীন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার তাঁর নামে সড়কটির নামকরণ এবং সড়কটি পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে হাজীগঞ্জ রেললাইনের পাশে একটি খালি ট্রাকে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে দগ্ধ হন ট্রাকের হেলপার মো. আবদুল মজিদ হোসেন। এতে তাঁর শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ জুলাই বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।

