খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী রামগড় এলাকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা। বিশেষ করে পুজা মন্ডপসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়াদিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় উদ্ভুত যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সঠিক সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে নিয়মিত সমন্বয় সভা করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় বিজিবির রামগড় জোনের ব্যবস্থাপনায় মাসিক নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ধরনের সভার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিজিবির যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও জোরদার হচ্ছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রামগড় জোন সদরে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম। সভায় রামগড় জোনের উপ-অধিনায়ক, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ভূজপুর থানা পুলিশের প্রতিনিধি, রামগড় বনবিট কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তি, হেডম্যান ও কারবারি, কাঠ ব্যবসায়ী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন।
রামগড়ের মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও তথ্য আদান-প্রদানের ওপর। বিশেষ করে সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ, চোরাচালান, মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত তথ্য পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত চলমান পুজা মন্ডপসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রভারণা পূর্ণিমায় সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে সিন্ধান্ত। মাসিক এ সভার মাধ্যমে সেই সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
সভায় মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা। স্থানীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনসাধারণের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় রামগড় ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তা দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান-কারবারি, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয়দের কাছ থেকে সময়মতো তথ্য পাওয়া গেলে নিরাপত্তাজনিত যেকোনো সমস্যা দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রামগড় জোনের এ উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা। দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে সবার দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি গুজবের মাধ্যমে যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশা শোনা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় নেতৃত্ব ও গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা—রামগড় জোনের এ ধরনের সভাগুলোকে সে সমন্বয়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিজিবি সরাসরি স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পাচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় সমস্যাগুলোও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

