খাগড়াছড়ির গুইমারায় ধর্মীয় নেতাদের অংশগ্রহণে ‘অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড পিসবিল্ডিং ট্রেনিং’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজে কুষ্ঠরোগ নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার ও ভুল ধারণা দূর করা, ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা আরও কার্যকর করাই ছিল এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে গুইমারা উপজেলা অডিটোরিয়ামের হলরুমে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে দ্য লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ। এতে সহযোগিতা করে দ্য লেপ্রসি মিশন ডেনমার্ক ও সেন্টার ফর চার্চ বেইজড ডেভেলপমেন্ট (CKU)। সিএইচটি লেপ্রসি কন্ট্রোল অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্টের অর্থায়নে এবং দ্য লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সিএইচটি লেপ্রসি কন্ট্রোল অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্ট ও দ্য লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশের জেলা সমন্বয়কারী বীর মোহন ত্রিপুরা।
প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা অংশ নেন। এ সময় ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক দায়িত্ব, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও আস্থা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিশেষভাবে কুষ্ঠরোগীদের প্রতি অবহেলা ও বৈষম্য না করার আহ্বান জানানো হয়। প্রশিক্ষণে বলা হয়, কুষ্ঠরোগ নিয়ে সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও ভুল ধারণার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও অবহেলার শিকার হন। অথচ সঠিক সময়ে শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা ও যত্ন নিশ্চিত করা গেলে কুষ্ঠরোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।
কুষ্ঠরোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে ধর্মীয় নেতাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরে সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা, মানবিক আচরণ ও সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রশিক্ষণের সংশ্লিষ্টরা।
প্রশিক্ষণে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সমাজে ধর্মীয় নেতাদের ব্যাপক প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাই তাদের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা গেলে কেবল কুষ্ঠরোগ নিয়ে কুসংস্কার দূর করাই নয়, একই সঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানও জোরদার করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে আয়োজিত এ ধরনের প্রশিক্ষণ সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কুষ্ঠরোগীদের প্রতি বৈষম্য ও কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

