মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, কুসংস্কার দূরীকরণ এবং কিশোরীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে পালিত হয়েছে বিশ্ব মাসিক স্বাস্থ্যবিধি দিবস।
মঙ্গলবার (৯ জুন) তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের আয়োজনে এবং নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)-এর সহযোগিতায় “সবাই মিলে গড়ি মাসিক বান্ধব পৃথিবী” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এ উপলক্ষে সকালে খাগড়াছড়ি মিউনিসিপ্যাল মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নারী উন্নয়নকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
পরে বিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মাসিক স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব, কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা মিনুচিং মারমা’র সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুষ্মিতা খীসা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি মিউনিসিপ্যাল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার চাকমা, খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মনিষা তালুকদার, কনসালটেন্ট সুযশ চাকমা এবং তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র এম্পাওয়ার প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাশ্বতী দেওয়ানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাসিক নারীদের স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে লজ্জা, সংকোচ ও কুসংস্কার দূর করে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সকল স্তরে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কিশোরীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানের শেষে বিদ্যালয়ের কিশোরী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্যানিটারি প্যাড, সাবান, বালতিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি উপকরণ বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস এবং মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয়রা এ আয়োজনকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম কিশোরীদের সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

