খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগে টেন্ডার প্রক্রিয়া ঘিরে অনিয়ম, সিন্ডিকেটচক্র ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমতিয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে তিনি খাগড়াছড়িতে যোগদানের পর থেকে সর্বশেষ ৭৮টি টেন্ডার নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি নির্দিষ্ট চক্রের হাতে পাইয়ে দিয়েছেন, যেখানে কখনো ৩% আবার কখনো ৫% পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমতিয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, বিভিন্ন প্রকল্পের এস্টিমেট তৈরি, টেন্ডার যাচাই ও বিল প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নির্বাহী প্রকৌশলীর হস্তক্ষেপ থাকে। অভিযোগ অনুযায়ী- বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে ৫%, ইউনিটমেটের কাজে ২% এবং হিসাব শাখায় নথিপত্র জমা দিতে আরও ১% পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হয়। ঠিকাদারদের দাবি, এসব আর্থিক শর্ত না মানলে কোনো কাজই অগ্রসর হয় না।
এছাড়াও একাধিক টেন্ডারে নন-রেসপন্সিভ দেখিয়ে নতুন ঠিকাদারদের বাদ দেয়া হয় এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর (ইমতিয়াজ আহমেদ) ঘনিষ্ঠ ঠিকাদাররা নিয়মিতভাবে কাজ পেয়ে আসছেন। টেন্ডার প্রাপ্তির তালিকা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়- একই ব্যক্তিরা বারবার কাজ পাচ্ছেন, যা সিন্ডিকেট থাকার সন্দেহ আরও জোরদার করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সবশেষে ৭৮টি টেন্ডারের মধ্যে লাইসেন্স নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তি মো. ইউনুস এককভাবে পেয়েছেন ৩৫টি টেন্ডার, এবং নজরুল, মিজান, রানা সাথে একত্রে আরও ১৬টি টেন্ডার পেয়েছেন। এছাড়াও নজরুল ইসলাম এককভাবে পেয়েছেন ১৫টি টেন্ডার এবং মিজান, ইউনুস ও রানার সাথে একত্রে পেয়েছেন আরও ২০টি টেন্ডার। এদিকে নোমান এককভাবে ১১টি টেন্ডার পেয়েছেন। রাজিব নন্দী পেয়েছেন ১টি টেন্ডার। অভিযোগ রয়েছে, উল্লেখিত সবগুলো টেন্ডারই প্রকৌশলী ইমতিয়াজ আহমেদের নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে নির্ধারিত কমিশনের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে টেন্ডারগুলো করেছেন।
নিজেদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার জানান, বিভাগে কাজ করতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতেই হয়। তাদের মতে, খোলাখুলি অভিযোগ করলে ভবিষ্যতে কোনো কাজ পাওয়া যাবে না- এই আশঙ্কায় কেউই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। ফলে পুরো বিষয়টি বছরের পর বছর অস্বচ্ছ থেকে যাচ্ছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, ইমতিয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন কর্মস্থলে আচরণগত সমস্যা, কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এমনকি এসব বিতর্কের কারণে তিনি একাধিকবার বদলির মুখোমুখি হয়েছেন। ঢাকা MRT থেকেও পূর্বে তাকে বদলি করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়াও টেন্ডারের কোড গোপন রাখা, এস্টিমেট দিতে দেরি করানো, সাইট ভিজিটে বাধা এবং স্বার্থান্বেষী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তিনি বিভাগে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। এতে উন্নয়ন কাজের মান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থ ব্যবহারে অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে। আর এসমস্ত সকল অনিয়মের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন এবং সকল অনিয়মের সহযোগী প্রকৌশলী কার্যালয়ের এসও মো. দেলোয়ার হোসেন ও আরেক সহযোগী নোমান।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ইমতিয়াজ আহমেদের মন্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। খবর নিয়ে জানাযায়, তিনি বর্তমানে ঠিকমতো অফিস করছেন না, এবং খবর নিয়ে জানাযায়, অভিযোগ উঠার পর অন্যত্র বদলির জন্য আপ্রান চেষ্টা করছেন প্রকৌশলী ইমতিয়াজ আহমেদ।
স্থানীয় ঠিকাদার সমাজ ও নাগরিক সমাজ অভিযোগের দ্রুত তদন্ত দাবি করেছে। তাদের মতে, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ উদ্বেগের বিষয় এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি জেলার উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

