মারমা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, অপপ্রচার, সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছে মারমা সম্প্রদায়। রবিবার (২৪ মে) সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সমন্বয়ক রুমেল মারমা। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থান বজায় রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ঢাকায় বসবাসরত খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ফাতেমনগরের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে আবুল হোসেন ফারুক ওরফে এএইচএম ফারুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারমা জনগোষ্ঠী ও তাদের নেতৃবৃন্দকে জড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা, বানোয়াট, উসকানিমূলক ও বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, তার ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্যের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট এবং পার্বত্যাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি তথাকথিত “আরাকান আর্মি”র সঙ্গে মারমা জনগোষ্ঠীকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মারমা সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা সবসময় বাংলাদেশের সংবিধান, আইন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী।
এসময় প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— আবুল হোসেন ফারুক ও এএইচএম ফারুক-কে দ্রুত আইনের আওতায় আনা, অপপ্রচারের নেপথ্য তদন্ত, সাম্প্রদায়িক উসকানির দায়ে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পার্বত্যাঞ্চলের শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ম্রাচাই মারমা, আপ্রুশি মারমা, সুধাঅং মারমা, কংজপ্রু মারমা, ক্যজরী মারমা, ববি মারমাসহ মারমা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।

