উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল, গ্যালারিজুড়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধ—সব মিলিয়ে জমজমাট এক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ‘বাঁশরী ওয়াদুদ আন্তঃ উপজেলা চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬’ ফুটবল টুর্নামেন্ট। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে লক্ষ্মীছড়ি মারমা ঐক্য পরিষদ একাদশকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দীঘিনালা রিপন স্মৃতি একাদশ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই দল। নির্ধারিত সময়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। তবে দুই দলের কেউই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপ সামলে লক্ষ্যভেদে এগিয়ে থেকে শিরোপা নিশ্চিত করে দীঘিনালা রিপন স্মৃতি একাদশ। রানার্সআপ হয় লক্ষ্মীছড়ি মারমা ঐক্য পরিষদ একাদশ।
ফাইনাল ঘিরে মাঠে ছিল দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি। দুই দলের খেলোয়াড়দের লড়াকু মনোভাব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্সে পুরো সময়জুড়েই ছিল টানটান উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের রোমাঞ্চে নির্ধারিত হয় কাঙ্ক্ষিত শিরোপা।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি, নগদ অর্থ ও মেডেল তুলে দেওয়া হয়।
টুর্নামেন্টের সভাপতি তুহিন কুমার দে’র সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, “খেলাধুলায় হার-জিত থাকবেই। পরাজয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই; বরং প্রতিযোগিতার প্রকৃত সৌন্দর্য ও শিক্ষা এখানেই। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ শেখায়। তাই আমাদের তরুণ সমাজকে মাঠমুখী করতে হবে।”
তিনি বলেন, তরুণদের মাদকাসক্তি, হতাশা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারের খেলাধুলাবান্ধব উদ্যোগ ও উৎসাহকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “কিশোর গ্যাং, মাদকাসক্তি ও অপরাধপ্রবণতা রোধে পরিবার ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করার দায়িত্ব শুধু পরিবারের নয়, পুরো সমাজের। খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার প্রসারের মাধ্যমে একটি সুস্থ, সুশৃঙ্খল, মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
আন্তঃ উপজেলা এই ফুটবল প্রতিযোগিতা তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

