নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) বিষয়ক স্টেকহোল্ডার, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও), কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও), কমিউনিটি চেঞ্জ মেকার (সিসিএম) এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মিলনপুর হিলটপ গেস্ট হাউসের সম্মেলন কক্ষে তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার (টিইউএস) এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাশ্বতী দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুষ্মিতা খীসা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবা আক্তার, মিলনপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির চেয়ারপার্সন তৃণা চাকমা, উইমেন্স রিসোর্স নেটওয়ার্ক (ডব্লিউআরএন)-এর সদস্য স্বপ্না চাকমা, এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন এক্সপার্ট স্মৃতি রঞ্জন ধামাই এবং নারী হেডম্যান-কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইখিন চৌধুরী।
কর্মশালায় বিভিন্ন কমিউনিটির ২৫ জন কমিউনিটি চেঞ্জ মেকার (সিসিএম), সিএসও, সিবিও, স্থানীয় স্টেকহোল্ডার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারীরা নাগরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, নারী নেতৃত্বের বিকাশ, স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব চর্চা তুলে ধরেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুষ্মিতা খীসা বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিক অংশগ্রহণ যত বাড়বে, ততই একটি জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সহজ হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে শাশ্বতী দেওয়ান বলেন, “এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা পারস্পরিক শেখা, সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সম্পৃক্ততা, সামাজিক জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আয়োজকরা জানান, সুইজারল্যান্ড, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) কর্মসূচির সহায়তায় তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কর্মসূচিটি পরিচালনা করছে জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপ।

