আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি-২৯৮ সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। এবার জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি রেকর্ড সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণে এ আসনের নির্বাচন বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ১৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও এনসিপি প্রার্থী মনজিলা সুলতানা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বাকী ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন।
মনোনয়ন জমাদানের শেষ দিন সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। একই দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন এডভোকেট ইয়াকুব আলী চৌধুরী। এ সময় উভয় প্রার্থীর সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও মনোনয়ন দাখিল করেছেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সমীরণ দেওয়ান, সোনা রতন চাকমা, ধর্মজ্যোতি চাকমা, লাব্রিচাই মারমা, সন্তোষিত চাকমা ও জিরুনা ত্রিপুরা। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— মো. কাউছার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. নূর ইসলাম (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ), মিথিলা রোয়াজা (জাতীয় পার্টি), মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মিয়াজী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), মো. মোস্তফা (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ), দীনময় রোয়াজা (গণঅধিকার পরিষদ–জিওপি) এবং উশোপ্রু মারমা (বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি–বিএমজেপি)।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া জানান, নির্বাচনের মাঠে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকা দরকার। শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি পাহাড়ের শান্তি, সম্প্রীতির পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা জানিয়েছেন। তিনি এর আগেও কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পতিত আ’লীগ সরকারের টানা মেয়াদে জেলায় বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মামলা, হামলা, নির্যাতনের শুকার হন। কয়েক দফায় ওয়াদুদ ভূইয়ার বাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে পতিত আ’লীগের নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে, বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার কথা জানিয়ে সমীরণ দেওয়ান বলেন, দলীয় রাজনীতির অপমৃত্যু হয়েছে। কিছুই করার নেই। কেন্দ্র বহিস্কার করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে লড়বেন। বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি এককথায় বলেন, এটি সম্ভব না। সমর্থন নয় বরং স্বতন্ত্র হয়ে তিনি নির্বাচনে লড়বেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এড. ইয়াকুব আলী চৌধুরী জানান, তিনি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও বৈষম্য মুক্ত খাগড়াছড়ি গড়তে কাজ করবেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কাউছার আজিজী বলেন, দলগত সিদ্ধান্ত আছে। জোটগত কোন বিষয় থাকলে তখন বিবেচনা করা হবে। তবে প্রার্থী হিসেবে লড়ে নির্বাচিত হয়ে পাহাড়ের মানুষের জন্যে করবেন এমনটা জানিয়েছেন।
৯ টি উপজেলা, ৩টি পৌরসভা ও ৩৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা। সংসদীয় আসন ১টি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন। জেলায় নারী পুরুষ মিলে প্রায় সমান সমান ভোটার।

