শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব আরও দক্ষতার সঙ্গে পালনের আহ্বানের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও জেলার নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত। এতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরণ চাকমা, শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি জেলার সামগ্রিক অগ্রগতি ও উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি মানসম্মত শিক্ষা। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর জ্ঞান নয়, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতা বিকাশেও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক, দায়িত্বশীল ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হলে শিক্ষার মানও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়। গুণী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে তারা বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষকদের আরও উৎসাহিত করবে এবং অন্যদেরও ভালো কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত করবে। শিক্ষাক্ষেত্রে এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার আহ্বানও জানান তারা।
এ বছর প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মোট নয়জন শিক্ষককে গুণী শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাতসহ অতিথিরা নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে গুণী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন টিএন্ডটি গেইট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রূপা মল্লিক রুপু, খাগড়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশা প্রিয় ত্রিপুরা এবং রামগড় বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসিমা বেগম।

মাধ্যমিক পর্যায়ে নির্বাচিত হয়েছেন নতুন কুড়ি ক্যান্টনমেন্ট হাই স্কুলের মো. সাইফুল ইসলাম এবং খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক চম্পানন চাকমা।
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে নির্বাচিত হয়েছেন মেহেরুন্নেছা বেগম মিলি, দীঘিনালা রাশিক নগর দাখিল মাদ্রাসার মো. আশিকুর রহমান এবং খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের মো. জহিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার কাজকে উৎসাহিত করা। এ ধরনের সম্মাননা শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে আরও অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলার শিক্ষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত দায়িত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

