নতুন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার ঘোষণা দিয়েছেন যে, শিক্ষার্থীরা যেন দেশে থেকেই বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে, সেই লক্ষ্যে তিনি কাজ শুরু করবেন। বুধবার সচিবালয়ে দুই উপদেষ্টার সংবর্ধনা ও বিদায় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি মনে করেন, আগামী ৮ থেকে ১০ মাসের মধ্যেই দেশে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তিনি বলেন, দেশে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, যা আগে কল্পনাও করা হয়নি। এখন মুক্তভাবে কথা বলা সম্ভব হচ্ছে, যা একসময় ভাবাই যেত না। নতুন দায়িত্বকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টাও স্বীকার করেছেন যে, এই পথ সহজ হবে না।
শিক্ষাকে একটি বিশাল ক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করে নতুন শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, দেশের নাগরিকরা জনগণের টাকায় শিক্ষিত হয়েছেন, তাই তাদের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকা জরুরি। তিনি এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেন, যা ব্যক্তি ও কর্মজীবনে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেবে এবং আত্মোন্নয়নের পথ তৈরি করবে। একই সঙ্গে এটি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক হবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক তৈরি করবে।
এদিকে, বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা আগামী ১০ মার্চের মধ্যে তাদের সব পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে।
এর আগে, সকাল ১১টার দিকে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সি আর আবরারকে শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩-এ।
সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল (সি আর) আবরারকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, গত ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রা শুরু হয়। প্রথম দফায় ১৬ জন উপদেষ্টা সরকারে যোগ দেন, পরে আরও চারজন যুক্ত হন। সবশেষ ১০ নভেম্বর তিনজন নতুন উপদেষ্টা শপথ নেওয়ার পর উপদেষ্টার সংখ্যা ২৪ জনে পৌঁছায়। তবে, ২০ ডিসেম্বর এএফ হাসান আরিফের মৃত্যু এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলামের পদত্যাগের পর বর্তমানে উপদেষ্টার সংখ্যা ২৩ জন।
