২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রেকর্ডসংখ্যক বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করলেও, তাদের স্বীকৃতির হার ছিল খুবই কম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় সংস্থা (EUAA) সম্প্রতি প্রকাশিত ‘Asylum Trend 2024’ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ৪৩,২৩৬ জন বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ২,৯০৪ জন বেশি। ২০২৩ সালে আবেদন করেছিলেন ৪০,৩৩২ জন। তবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কেন বেড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। তবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যাপক বিক্ষোভ এবং সংঘর্ষে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত ও হাজারো মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
ইতালিতে সর্বাধিক বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থী
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। ২০২৩ সালে ইতালিতে ২৩,৪৪৮ জন আবেদন করলেও, ২০২৪ সালে তা ৪৩% বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩,৪৫৫ জনে পৌঁছেছে। ইতালিতে আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা ছিল সবচেয়ে বেশি, যা মোট আবেদনকারীর ২১ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল পেরুর নাগরিকেরা (১০ শতাংশ)।
ফ্রান্সে কমেছে, গ্রিসে বেড়েছে
বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন ফ্রান্সে কমেছে—২০২৩ সালে যেখানে ১০,২১৫ জন আবেদন করেছিলেন, সেখানে ২০২৪ সালে তা কমে ৬,৪২৯ জনে নেমে এসেছে। তবে গ্রিসে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়েছে—২০২৩ সালে ৬৪০ জন থাকলেও, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১,০০৪ জন হয়েছে।
বাংলাদেশিদের স্বীকৃতির হার অত্যন্ত কম
যদিও বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন বেড়েছে, কিন্তু তাদের স্বীকৃতির হার মাত্র ৪ শতাংশ, যা আগের বছরের মতোই রয়ে গেছে। আশ্রয় মঞ্জুরির দিক থেকে সিরিয়ার ৯০ শতাংশ এবং আফগানিস্তানের ৬৩ শতাংশ আবেদনকারী স্বীকৃতি পেয়েছেন, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি।
ইউরোপে আশ্রয়প্রার্থীর সামগ্রিক চিত্র
২০২৪ সালে ইইউ, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ডে মোট ১০ লাখের বেশি আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১১ শতাংশ কম।
জার্মানি আশ্রয়প্রার্থীদের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য ছিল, যেখানে ২৩৭,০০০ জন আবেদন করেছেন, তবে এটি আগের বছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ কম। স্পেন, ইতালি ও ফ্রান্সেও প্রায় ১,৬০,০০০ জন করে আবেদন করেছেন।
এছাড়া, প্রতি ১৪০ জন বাসিন্দার বিপরীতে ১টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে সাইপ্রাস ও গ্রিসে, যা ইউরোপে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশিরা আশ্রয়ের জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছুটলেও, তাদের আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা এখনো খুবই কম বলে উল্লেখ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় সংস্থা।
