খাগড়াছড়িতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের আয়োজনে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং গুণীজনদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রয়াত শিক্ষক নবীন কুমার ত্রিপুরাকে স্মরণে এক স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যো হ্লা মং। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রয়াত নবীন কুমার ত্রিপুরা ছিলেন একজন আদর্শ, মানবিক ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। তিনি শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেননি, বরং সততা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের শিক্ষাও দিয়েছেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর স্নেহ, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধ আজও শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীদের কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে আছে।
বক্তারা আরও বলেন, পাহাড়ি জনপদের শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক উন্নয়নে নবীন কুমার ত্রিপুরার অবদান ছিল অনন্য। তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। তাঁর কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত শিক্ষক নবীন কুমার ত্রিপুরার পক্ষে তাঁর ছেলে খোকনেশ্বর ত্রিপুরার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরণ চাকমা, জেলা পরিষদের সদস্য প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও গবেষক প্রভাংশু ত্রিপুরা, জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ইউসুফ আদনানসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, “একজন ভালো শিক্ষক কখনো মৃত্যুবরণ করেন না; তিনি বেঁচে থাকেন তাঁর শিক্ষার্থী, আদর্শ ও কর্মের মধ্য দিয়ে।” আর সেই অর্থে নবীন কুমার ত্রিপুরা আজও খাগড়াছড়ির শিক্ষা অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নাম, যাঁর অবদান দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে পাহাড়ের মানুষ।

