জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব চাহিদাকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে জলবায়ু সহনশীল ও দুর্যোগ-প্রস্তুত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রণীত লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যান (এলআরপি) জনসম্মুখে উপস্থাপন ও প্রচারের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, স্থানীয় জনগণের মতামত ও প্রয়োজনকে ভিত্তি করে প্রণীত এ পরিকল্পনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স থ্রু লোকালি লেড ইনক্লুসিভ অ্যাডাপটেশন (CoRLIA)-এর উদ্যোগে এবং ইকোসিস্টেমস রেস্টোরেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন সিএইচটি (ERRD-CHT) প্রকল্পের আওতায় ইউএনডিপি (UNDP)-এর সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারিয়া সুলতানা।
অনুষ্ঠানে লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে CoRLIA প্রকল্পের খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর উসাংপ্রু মারমা বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের অভিজ্ঞতা, মতামত ও বাস্তব প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য স্থানীয় জনগণকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তোলা, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। এ ধরনের লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন CoRLIA প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার পরিচিতা খীসা, খাগড়াছড়ি সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. ইসমাইল হোসেন, সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এস. এম. মোশাররফ হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
এছাড়াও সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, কৃষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, প্রণীত লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যান বাস্তবায়নে সকল অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে খাগড়াছড়িতে জলবায়ু সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

