‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ। জেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে জেলা শহরের পৌর টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বর ঘুরে পুনরায় পৌর টাউন হল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য,জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার-সহ মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৎস্যচাষি ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন ও উৎপাদনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জেলার তিনজন মৎস্যচাষীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন-মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ক্যাটাগরিতে দক্ষিণ খবংপুড়িয়ার সৃজন চাকমা, কার্পজাতীয় মাছ উৎপাদন ক্যাটাগরিতে রামগড়ের হাতির খেদা এলাকার মো. সেলিম এবং মাছের পোনা উৎপাদন ক্যাটাগরিতে তাইন্দং বাজারপাড়ার সুরুজ মিয়া।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক মাছ চাষ প্রযুক্তি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং মৎস্যচাষীদের উৎসাহিত করতে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের জলাশয় ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মৎস্যচাষীদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের এবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যচাষীদের স্বাবলম্বী করা এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

