জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব চাহিদাকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় প্রণীত লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যান (এলআরপি) জনসম্মুখে উপস্থাপন ও প্রচারের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বুধবার সকাল ১০টায় গুইমারা উপজেলা অডিটোরিয়ামে কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স থ্রু লোকালি লেড ইনক্লুসিভ অ্যাডাপটেশন (CoRLIA)-এর উদ্যোগে এবং ইকোসিস্টেমস রেস্টোরেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন সিএইচটি (ERRD-CHT) প্রকল্পের আওতায় ইউএনডিপি (UNDP)-এর সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিশকাতুল তামান্না। অনুষ্ঠানে CoRLIA প্রকল্পের গুইমারা উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর রাসিল ত্রিপুরা লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন ও মতামতের ভিত্তিতে এই পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী করতে সহায়তা করবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন CoRLIA প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা নবলেশ্বর দেওয়ান লায়ন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবলু হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, কৃষক এবং স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর মতামত তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, CoRLIA প্রকল্পের কার্যক্রম ইতোমধ্যে গুইমারার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখছে। উপজেলার দুটি সাইটের ছয়টি পাড়ায় সৌরশক্তিচালিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পানি সংকট অনেকাংশে নিরসন হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং স্বনির্ভর কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য জনপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান প্রদান তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
তারা আরও বলেন, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে প্রণীত লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যান ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আরও সমন্বিত ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
সভার শেষে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, CoRLIA প্রকল্পের আওতার বাইরে যেসব এলাকায় এখনও উন্নয়ন কার্যক্রমের ঘাটতি রয়েছে, সেসব এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন সরকারি লাইন ডিপার্টমেন্টের সমন্বিত সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে আশ্বাস দেন।

