খাগড়াছড়ি সদরের চেঙ্গী নদীর তীর থেকে বন্ধ ঘোষণাকৃত বালুমহালেও থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৩ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এক অভিযানে এ দণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারিয়া সুলতানা, এবং সহযোগী হিসেবে ছিলেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ সাকিব।
অভিযান চলাকালে দক্ষিণ গঞ্জপাড়া ও জরিন্দা ঘাট এলাকায় চেঙ্গী নদীর তীর থেকে স্কেভেটর ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং তা বাণিজ্যিকভাবে পরিবহনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালত ৩ জনকে ১ মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি বালু পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করা হয়।
জানা যায়, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪ ধারায় এ সাজা প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, একই আইনের ৯(৫) ধারার বিধান অনুযায়ী গত ৩০ মার্চ জেলা সদরের গঞ্জপাড়া ও মুসলিমপাড়া বালুমহাল বিলুপ্ত ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু এরপরও একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে, যা পরিবেশ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশাসনের এমন অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও, বালু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

