শহিদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে খাগড়াছড়ি অভিমুখে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ২টায় খাগড়াছড়ির রামগড় বাজার একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বাজারের মূল সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফাইম ব্যাংকের গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে নেতাকর্মীরা ‘বাংলাদেশের আজাদি, উসমান হাদী’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন ভারতে’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন, ইনকিলাব সার্চ কমিটির আহ্বায়ক জি. এল. সাব্বির ও সার্চ কমিটির সদস্য সচিব আদনান আহাদ সহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে এনসিপির রামগড় উপজেলা আহবায়ক হারুনুর রশিদ সহ স্থানিয় নেতাকর্মীরাও এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ফাইম ব্যাংকের সামনে শহিদ আবতাবুল কাদের সড়কে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পদযাত্রা শুরু করেছি তারই অংশ হিসেবে খাগড়াছড়িতে আমাদের মার্চ ফর ইনসাফ পদযাত্রা।
সংক্ষিপ্ত পথসভায় জাবের বলেন, আমাদের তিন দফা দাবিগুলো হলো— ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার, জুলাইয়ের গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং শাপলা, পিলখানা ও জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।

তিনি আরও জানান, এই দাবিগুলো শুধু ইনকিলাব মঞ্চের নয়, বরং দেশের মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কোনো ধরনের আপস ছাড়াই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাবের আরো বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়নি। বাংলাদেশের সীমান্তে একটা লাশ পড়লে ভারত সীমান্তেও পড়তে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান হলেও বর্তমান সরকার ভারতীয় তাবেদারি ছাড়তে পারেনি। ভারত এদেশের খুনিদের আশ্রয়দাতা ভারতের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে সরকারকে দেখা যায়নি।
শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, “আগামী ডিসেম্বরে আমাদের ভাই শহীদ ওসমান হাদী হত্যার এক বছর পূর্ণ হতে চলল। এমন কোনো পথ বা মাধ্যম বাকি নেই, যেখানে গিয়ে আমরা এই হত্যার বিচার চাইনি। অথচ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রে নিজ দেশের একজন নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর, বিচারের জন্য আমাদের রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষুকের মতো ঘুরতে হচ্ছে!”
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সকালে চোখ ডলতে ডলতে বলেন যে, নাকি গত আট মাসে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নয়ন হয়েছে! উনার আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন কেমন, তা আমরা দেখতেই পাচ্ছি। উনার নিজের আসনেই দিনে-দুপুরে ৫০টি বাস থামিয়ে ডাকাতি হয়! একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের লাশ নদীতে ভেসে ওঠে! মিরাজ শেখ আজ ২০৪ দিনেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ, অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুক ফুলিয়ে বলছেন যে গত আট মাসে নাকি বাংলাদেশে একজন মানুষও নিখোঁজ হয়নি! আমরা বলে দিতে চাই—সংসদে বসে সবাইকে সংবিধানের পাঠ শেখানো এই মহা-পণ্ডিতদের, জনগণ সামনে নিজেই বসিয়ে সংবিধান মুখস্থ করিয়ে ছাড়বে, ইনশাআল্লাহ।”

