পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গঠিত শরণার্থী পুনর্বাসন ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান পদে ডা. স্বপন কুমার চাকমাকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
সোমবার ( ৫ অক্টোবর) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী গঠিত সংশ্লিষ্ট ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী ও পুনবার্সন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনবার্সন সম্পর্কিত টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান পদে খাগড়াছড়ি সদর এলাকার বাসিন্দা স্বপন কুমার চাকমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডা. স্বপন কুমার চাকমার পিতা সুখময় চাকমা। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা খাগড়াছড়ির পানছড়ি এলাকায়। তিনি ১৯৮০ সালের ২২ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন । পেশা জীবনে তিনি একজন চিকিৎসক। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তিনি সমাজসেবাও করে থাকেন।
তিনি ঢাকার ঢাকা ডেন্টাল কলেজ থেকে বিডিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ওরাল ও ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারিতে পিজিডিটি সম্পন্ন করেন।
তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্র দলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ঢাকা উত্তর মহানগর ছাত্রদলের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে তিনি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করায় একাধিকবার শারিরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি।
নতুন দায়িত্বে ডা. স্বপন কুমার চাকমার মূল কাজ হবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আওতায় শরণার্থী পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন-সংক্রান্ত কার্যক্রমে টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেওয়া। প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ডা. স্বপন কুমার চাকমার নিয়োগ সেই প্রক্রিয়ায় নতুন নেতৃত্বের সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে

