খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথে এক ক্রীড়া আন্দোলন
“খেলাধুলায় গড়ে উঠুক আগামীর বাংলাদেশ”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পাহাড়ের সবুজ ভূমিতে শুরু হয়েছে এক নতুন উদ্দীপনা। তারুণ্যের উৎসব ২০২৫-এর অংশ হিসেবে খাগড়াছড়িতে শুরু হলো মাসব্যাপী অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। জেলা ক্রীড়া পরিষদের বার্ষিক কর্মসূচির আওতায় শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জমকালো আয়োজনে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়।
রঙিন ব্যানার, উল্লাসে ফেটে পড়া শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি এবং অতিথিদের প্রাণবন্ত বক্তব্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি যেন তারুণ্যের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। জেলা ক্রীড়া অফিসের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক মো. মাহাবুব আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিষদের যুগ্ম নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) মো. নোমান হোসেন।
বক্তারা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আজকের এই কিশোর প্রজন্ম খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকলে আগামীতে তারা হবে সুস্থ, সচেতন ও নেতৃত্বদানে সক্ষম নাগরিক। ফুটবলের মতো দলীয় খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিশোরদের মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা, নেতৃত্বগুণ, এবং সময়ানুবর্তিতা—এর মতো অপরিহার্য গুণাবলি গড়ে ওঠে, যা তাদের সামগ্রিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে। সমাজে শৃঙ্খলা, ঐক্য ও মানবিক গুণাবলি বৃদ্ধির জন্য এই ধরনের উদ্যোগ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়েও তারা গুরুত্বারোপ করে
মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সেরা অনূর্ধ্ব-১৫ কিশোর ফুটবলাররা অংশ নিচ্ছে। পেশাদার কোচ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে নিয়মিত অনুশীলন চলবে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী: নতুন ফুটবল প্রতিভা আবিষ্কার করা এবং জেলা পর্যায়ে একটি শক্তিশালী কিশোর ফুটবল দল গঠন করা।
খাগড়াছড়ি জেলা ক্রীড়া অফিসের এই সময়োপযোগী প্রয়াস তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করবে এবং পেশাদার ক্রীড়াজগতের প্রতি তাদের আগ্রহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজক ও অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন।
মাঠে দাঁড়িয়ে দেশের হয়ে একদিন খেলার স্বপ্ন দেখছে অনেক কিশোর। প্রশিক্ষণার্থী সৌরভ চাকমা ও গৌরব চাকমা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, “প্রথমবার এত বড় আয়োজনের প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছি। এখান থেকে অনেক কিছু শিখে ভবিষ্যতে দেশের বড় দলে খেলতে চাই।” এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অভিভাবকসহ স্থানীয়রা মনে করেন, পড়াশোনার পাশাপাশি এমন ক্রীড়াভিত্তিক কর্মসূচি কিশোরদের ভুল পথে যাওয়া থেকে বিরত রাখে এবং তাদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।
খাগড়াছড়িতে মাসব্যাপী অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কেবল একটি ক্রীড়াচর্চার আয়োজন নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলনের সূচনা—যা আগামী প্রজন্মকে সুস্থ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলে তাদের হাতেই তুলে দেবে আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব।

