সম্প্রতি নানা ঘটনা ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি জেলায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে (গতকাল ২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর থেকে ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে অষ্টম শ্রেণির মার্মা শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ, মিছিল বের করা হয়। পরবর্তীতে তারা পরপর প্রথমে আধা বেলা পরবর্তীতে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ পালন করে। গতকাল (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ চলাকালে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ ডাক দেয় জুম্ম ছাত্র-জনতার সমর্থনকারীরা। পরে রাতে অবরোধ প্রত্যাহার ঘোষণা করে আবারও অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয় তারা।
ফলে আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলাজুড়ে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনকারীরা। তাঁদের সুনির্দিষ্ট দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি চলবে বলে জানানো হয়। এর ফলে শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানিয়েছে, অবরোধ চলাকালে সহিংসতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি অব্যাহত থাকবে। জেলা শহর ও পৌরসভা এড়িয়াতে একসাথে অতিরিক্ত মানুষের সমাবেশ, মিছিল-মিটিং ও যেকোনো ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এবং জায়গায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি সহ অনান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে এমন অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে এবং আতঙ্কে রয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা এই অবরোধের কারণে গত কয়েকদিন থেকেই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়েছে।
সংযম ও সতর্কতার মাধ্যমে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন প্রশাসন।

