পার্বত্য চট্টগ্রামে যখন কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়, বিশেষ করে ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর ঘটনা, তখন স্বাভাবিকভাবেই ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
অপরাধীর শাস্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, এসব ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীর বিচার চাওয়ার পরিবর্তে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে পাহাড় থেকে “সেনা হটাও” স্লোগানকে সামনে আনে।
এখানেই প্রশ্ন জাগে, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সেনাবাহিনীকে হটানোর দাবি কেন জড়ানো হচ্ছে? সেনাবাহিনী পাহাড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস দমন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিরলস ভূমিকা রেখে চলেছে। অথচ যেকোনো ঘটনায় অপরাধীর বিচার দাবির বদলে সেনাবাহিনীকে দায়ী করা আসলে মূল এজেন্ডা আড়াল করার কৌশল।
এ ধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, অন্যদিকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে পাহাড় অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করা হয়। এটি শুধু ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচারের পথে বাধা নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলা ও শান্তি-সম্প্রীতির জন্যও মারাত্মক হুমকি।
অতএব, পাহাড়ে ধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সবার দাবি। কিন্তু এর আড়ালে সেনা হটানোর দাবি তোলা মানে উদ্দেশ্য ভিন্ন। এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যা জনগণের স্বার্থ নয় বরং একটি গোষ্ঠীর স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়ার কৌশল। ন্যায়বিচার চাইলে অপরাধীর বিচার চাই, সেনা হটানোর দাবি নয়।
_এম মহাসিন মিয়া, সাংবাদিক ও লেখক।

