স্বাধীন ও সুষ্ঠু গণমাধ্যম যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রাণশক্তি। গণমাধ্যম শুধু সংবাদ প্রচার করে না, বরং সমাজের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয় এবং রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক সময় দেখা যায়, গণমাধ্যমে কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রবেশ করে এর মূল উদ্দেশ্যকে বিকৃত করছে।
এরা সংবাদকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি, ক্ষমতার দালালি কিংবা অপপ্রচারের হাতিয়ার বানিয়ে ফেলে। ফলশ্রুতিতে গণমাধ্যমের ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট হয় এবং এর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়।
স্বাধীন ও সুষ্ঠু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম শর্ত হচ্ছে অসাধু ব্যক্তিদের গণমাধ্যম থেকে পরিহার করা। যোগ্য, নীতিবান ও পেশাদার সাংবাদিকদের হাতে সংবাদপত্র, টেলিভিশন কিংবা অনলাইন মাধ্যম পরিচালনা করতে হবে। গণমাধ্যমের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা থাকতে হবে, যেন কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি জনগণের অধিকারকে উপেক্ষা করে নিজেদের স্বার্থে সংবাদ ব্যবহার করতে না পারে।
একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে শুধুমাত্র তাঁদের জন্য, যারা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করতে চান। সাংবাদিকতা হতে হবে সমাজসেবা ও দায়িত্বশীলতার অঙ্গীকার, কোনোভাবেই ব্যবসায়িক কারসাজি বা অসাধু প্রভাবের কেন্দ্র নয়।
সর্বোপরি বলা যায়, অসাধু ব্যক্তিদের প্রভাবমুক্ত গণমাধ্যমই হতে পারে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও সুষ্ঠু গণমাধ্যম। আর এ রকম গণমাধ্যমই পারে সমাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক চর্চা সুদৃঢ় করতে।
_এম মহাসিন মিয়া, সাংবাদিক ও লেখক, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা।

