খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের বাঘাইহাট জোন (৬ বেঙ্গল) এর আওতাধীন রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) এর সশস্ত্র দলের বিরুদ্ধে একটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেনাবাহিনী জানায়, মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ভোর রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাঘাইছড়ি উপজেলার নরেন্দ্র কারবারী পাড়া এলাকায় ইউপিডিএফ (মূল) এর একটি সশস্ত্র দল অবস্থান করলে বাঘাইহাট জোনের সেনা টহলদল নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে অবরোধ ও তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ইউপিডিএফ (মূল) এর সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। গুলিবিনিময় শেষে সেনা সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১টি সাবমেশিনগান (SMG), ৩টি দেশীয় তৈরী বন্দুক, ১টি এলজি, ১টি সাব মেশিনগানের ম্যাগাজিন, ১টি পোচ, ৭ রাউন্ড এ্যামোনিশন (DDG Jooe), ১৭টি খালী খোসা (DDG Jooe), ২৫টি বিভিন্ন লটের এসএমজির খালী খোসা, ২টি কার্তুজ, ৪টি ওয়াকি টকি, ১টি মটরোলা সেট (Talkaboy-T5428), ৪টি ওয়াকিটকি চার্জার, ২টি ক্যামেরা, ১টি স্পাই ক্যামেরা সান গ্লাস, ১টি স্পাই ক্যামেরা ডিভাইস চার্জার, ৩টি পেন ড্রাইভ, ৪টি ইউপিডিএফ সংগঠনের পতাকা, ৫টি ইউপিডিএফ সংগঠনের আর্মবেন্ড এবং ১২টি বিভিন্ন প্রকারের বই উদ্ধার করে।
বাঘাইহাট সেনা জোনের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. মাসুদ রানা (পিএসসি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানান, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সার্বিক পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় বাঘাইহাট জোন (৬ বেঙ্গল) এর টহলদল গতকাল রাত থেকেই অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ভোর সাড়ে চারটার দিকে সেনা টহলদল নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে অবরোধ ও তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
এছাড়াও তিনি জানান, আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, আমাদের অভিযান শুধুমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র দলগুলোর বিরুদ্ধে। সাধারণ জনগণ, যারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি রয়েছে এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর । পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিগোষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা দিন রাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যহত থাকবে।

