পার্বত্য চট্টগ্রামমে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সমূহে ত্রিপুরা-মারমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বঞ্চিত রাখা এবং নগদ অর্থ, খাদ্যশস্য বরাদ্দে চরম বৈষম্যসহ আওয়ামী লীগ দোসরদের পূনর্বাসনের প্রতিবাদে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ও যুগ্ন-সচিব কংকন চাকমাকে দ্রুত মন্ত্রণালয় হতে অপসারণের দাবিতে খাগড়াছড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন অনু্ষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে ত্রিপুরা ও মারমা সমাজের ব্যানারে চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে সচেতন মারমা সমাজের প্রতিনিধি রুমেল মারমা বলেন,“বৈষম্যহীন, প্রতিনিধিত্বমূলক একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্নে আমরা পথ চলেছিলাম। কিন্তু আজ পার্বত্য মন্ত্রণালয় হয়ে উঠেছে একচেটিয়া কর্তৃত্বের প্রতীক। এখানে ত্রিপুরা-মারমা জাতিগোষ্ঠীর জন্য নেই ন্যায্য অধিকার।
তিনি অভিযোগ করেন, বরাদ্দ, প্রকল্প, প্রশাসনিক পদ—সবখানেই চলছে পক্ষপাত ও গোষ্ঠীগত আধিপত্য, যার ফলে পাহাড়ি সমাজে তৈরি হয়েছে প্রবল অসন্তোষ ও হতাশা। এসময় চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিসমূহ:
সুপ্রদীপ চাকমাকে পার্বত্য উপদেষ্টার পদ থেকে দ্রুত অপসারণ করতে হবে। পার্বত্য তিন জেলায় প্রকল্প ও বরাদ্দ ‘ন্যায্যতা ও সংবেদনশীলতা’র ভিত্তিতে বণ্টন করতে হবে।
আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান পদে মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চার দফা দাবি মানা না হলে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ও যুগ্ন-সচিব কংকন চাকমাকে অপসারণ করা না হলে অবরোধের মধ্যমে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামকে অচল করে দিতে বঞ্চিত সকলকে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামার হুশিয়ারী দেয়া হয়।
এসময়, কার্বারী সূর্য কিরণ ত্রিপুরা, প্রশান্ত ত্রিপুরা, ম্রাচাই মারমা, উক্রাচিং মারমা, চিংলামং মারমা, মিনুচিং মারমা, সীমা ত্রিপুরা, তনয় ত্রিপুরা উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

