বান্দরবানের আলীকদমে পর্যটক নিহতের ঘটনায় ভ্রমণ পরিচালনাকারী সংস্থা ট্যুর এক্সপার্টের প্রধান বর্ষা ইসলাম ওরফে বৃষ্টিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার সকালে নিহত স্মৃতি আক্তারের বাবা হাবিবুর রহমান নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে আলীকদম থানায় মামলা করেন। মামলায় নিয়মকানুন অনুসরণ না করে ঝুঁকিপূর্ণ দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ আয়োজনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানা যায়, পর্যটকদের নিয়ে ক্রিসতং ও রংরাং পাহাড় ভ্রমণ শেষে আলীকদমে ফেরার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বর্ষা ইসলামকে আটক করা হয়। এরপর হাবিবুর রহমানের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
গত বুধবার আলীকদমের দুর্গম ক্রিসতং পাহাড় এলাকায় ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে শামুকঝিরিতে তিনজন পর্যটক ভেসে নিখোঁজ হন। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার জুবাইরুল ইসলাম ও শুক্রবার স্মৃতি আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া হাসান চৌধুরী নামে ট্যুর এক্সপার্ট গ্রুপের সহকারী প্রধান এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে গত ৮ জুন ট্যুর এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনায় দুই দলে ভাগ হয়ে ৩৩ জন পর্যটক আলীকদমের দুর্গম ক্রিসতং ও রংরাং পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
স্মৃতি আক্তারের বাবা হাবিবুর রহমান মামলায় অভিযোগ করেন, বর্ষা ইসলামের পরিচালিত ট্যুর এক্সপার্ট প্রতিষ্ঠানের অনলাইনে ক্রিসতং ও রংরাং পাহাড়ে ভ্রমণের ওপর আকর্ষণীয় পোস্ট করেন। ওই পোস্ট দেখে স্মৃতি আলীকদম যান। বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকির বিষয়টি না জানিয়ে বিপজ্জনক জায়গায় পর্যটকদের নিয়ে গিয়ে বর্ষা ইসলাম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইড পর্যাপ্ত সংখ্যায় সঙ্গে নিয়ে যাননি তারা। স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইড ছাড়া পাহাড়ি পরিবেশে তার অনভিজ্ঞ মেয়ে স্মৃতিসহ পর্যটকরা আলীকদমের দিকে ফিরছিলেন। শামুকঝিরি ঝরণা এলাকায় এসে প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের পানিতে স্মৃতি ও সঙ্গে থাকা হাসান চৌধুরী এবং জুবাইরুল ইসলাম ভেসে যান। ট্যুর এক্সপার্টের প্রধান বর্ষা ইসলাম ও তার সহযোগীদের অবহেলা, দায়িত্বহীন ও অদক্ষতায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল্লাহ আল মুমিন জানিয়েছেন, কোনো পর্যটক উপজেলা সদরের বাইরে ভ্রমণে গেলে উপজেলা পর্যটন সেবাকেন্দ্রে নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হয়। প্রতি ১২ জনের জন্য একজন করে নিবন্ধিত ট্যুরিস্ট গাইড নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে; কিন্তু ট্যুর এক্সপার্টের বর্ষা ইসলাম ১২ জন পর্যটকের নাম ও ঠিকানা দিয়ে ৩৩ পর্যটকের জন্য মাত্র একজন ট্যুরিস্ট গাইড নিয়েছিলেন। ১২ জন ট্যুরিস্ট একজন গাইড নিয়ে আরও দূরে ভ্রমণে গেছেন। ২২ জন পর্যটককে কোনো গাইড ছাড়া ফেরত পাঠানো হয়েছে। এজন্য দুর্ঘটনায় পড়ে তিন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। এখনো একজনের কোনো সন্ধান মিলছে না।
আলীকদম থানার ওসি মীর্জা জহির উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্ষা ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ট্যুর এক্সপার্ট গ্রুপের অন্যদেরও অজ্ঞাতনামা হিসেবে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার বর্ষা ইসলামকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

