সম্প্রতি খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় ১৫টি গুচ্ছগ্রামে রেশন বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।এতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিতরণে নিম্নমানের চাল-গম বিতরণ সহ অতিরিক্ত ফি নেয়ার কথাও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অন্য দিকে বাঙালী গুচ্ছগ্রামগুলোতেও রেশন কার্ড হোল্ডারদের মাঝে সিদ্ধ চালের পরিবর্তে নিম্নমানের আতপ চাল বিতরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এছাড়াও রাজনৈতিক দলের স্থানীয় অসাধু নেতা ও ব্যবসায়ীরা রেশন কার্ড বানিজ্যের মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে চাল-গম গোডাউনে জমা রেখেই বিতরণ দেখিয়েছেন বলেও জানান অনেকেই।
এছাড়াও বাঙ্গালী গুচ্ছগ্রামের রেশন কার্ড হোল্ডারদের মাঝে সিদ্ধ চাল বিতরণের কথা থাকলেও সিন্ডিকেট করে অধিকাংশ জায়গায় দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের আতপ চাল। গুচ্ছগ্রামের রেশন কার্ডধারী ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় অসাধু রাজনৈতিক নেতারা দলীয় প্রভাব বিস্তার করে অনেকেই নামেমাত্র প্রজেক্টরের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কার্ডধারীদের চাল-গম কম দিচ্ছে। এছাড়াও পরিকল্পিতভাবে নিম্নমানের চাল-গম বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক গুচ্ছগ্রাম গুলোতে তদারকির জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হলেও স্থানীয় অসাধু নেতারা ট্যাগ অফিসারদের অর্থের দ্বারা ম্যানেজ এই অনিয়মগুলো করছেন বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।
এছাড়াও নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি গুচ্ছগ্রামের একাধিক রেশন কার্ড হোল্ডাররা জানান, গুচ্ছগ্রামগুলোতে চলছে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রেশন বিতরণ। হতদরিদ্রদের ও গুচ্ছগ্রাম বাসীর রেশনের চাল বানিজ্যে মেতে উঠেছে রাজনৈতিক দলের স্থানীয় অসাধু নেতারা এবং এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। তাঁরা অগ্রীম টাকা দিয়ে সল্প মুল্যে চাল-গম ক্রয় করে সমতলে পাচার করছে। এবং তাঁরা সিন্ডিকেট করে নিম্নমানের চাল-গম বিতরণ, মূল্য কম দেয়াসহ মাপেও কম দিচ্ছে। আর এ সবই নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় অসাধু রাজনৈতিক নেতারা। প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকির মাধ্যমে প্রতিটা গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণের দাবী ভুক্তভোগীদের।
এসব ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে আসল রহস্য মনে করছেন সচেতন মহল। প্রশাসনের তদারকির মাধ্যমে জনগণের পাওনা যেন জনগণ সঠিক নিয়মে পায় তার সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সকলের সহযোগিতা ও সুষ্ঠু তদন্ত করার দাবি সচেতন মহলের।
এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত কুমার শাহা’র সরকারি মোবাইল নাম্বারে মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

