পটুয়াখালীর বাউফল থেকে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়ে সে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর স্কুলে যাওয়ার পথে তাকে উত্ত্যক্ত করছিল। তার পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার ছেলেটির পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কিছুদিন পর ওই কিশোর ফেসবুকে ভুক্তভোগীর এক সহপাঠীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে এবং সেখানে অবমাননাকর মন্তব্য যোগ করে। এই পোস্ট দেখার পর হতাশাগ্রস্ত হয়ে কিশোরী একটি সুইসাইড নোট লিখে নিজের কক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে ফাঁস দেয়।
তার চিরকুটে লেখা ছিল, **”আমি কিছুই স্বেচ্ছায় করিনি। আমাকে বাধ্য করা হয়েছে। ওই ছেলেটি ও তার পরিবার আমার জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিয়েছে…”**
ভুক্তভোগীর মা জানান, **”আমরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং ছেলেটির চাচার কাছে অভিযোগ করেছিলাম, কিন্তু তারা কিছুই করেনি। পরে যখন মেয়ের ছবি অনলাইনে পোস্ট করে লজ্জাজনক মন্তব্য করা হলো, তখন আমার মেয়ে আত্মহত্যা করল।”**
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, **”মেয়ে তার সুইসাইড নোটে ছেলেটির কথা উল্লেখ করেছে। আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”**
এদিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি ঘটনার একদিন আগে বিষয়টি জানতে পেরে ছেলেটি ও তার পরিবারকে সতর্ক করেছিলেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কিশোর ও তার পরিবার গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
