খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ছোট মেরুং উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শান্তি রঞ্জন দেওয়ান দীর্ঘ প্রায় চার দশকের গৌরবময় শিক্ষকতা জীবন শেষ করে পেলেন এক আবেগঘন ও রাজকীয় বিদায়।
অবসরজনিত কারণে বুধবার (১৫ এপ্রিল- ২০২৬) তারিখে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে সম্মানের সাথে বিদায় জানানো হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আবেগ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অনন্য মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আল হেলাল মো. মাসুদ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিদায়ী শিক্ষক শান্তি রঞ্জন দেওয়ানের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সহকর্মীরা। তারা বলেন, “শান্তি স্যার শুধু একজন শিক্ষকই নন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শ গড়ার কারিগর। তার হাত ধরে অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত।”
আবেগঘন বক্তব্যে বিদায়ী শিক্ষক শান্তি রঞ্জন দেওয়ান বলেন, “এই বিদ্যালয়ই ছিল আমার জীবন, আমার ভালোবাসা। শিক্ষার্থীদের মাঝে কাটানো প্রতিটি দিন আমার কাছে স্মরণীয়। আমি কখনোই মনে করি না আমি বিদায় নিচ্ছি, আমি সবসময় এই বিদ্যালয়ের একজন অংশ হয়ে থাকবো। আমার শিক্ষার্থীদের সফলতাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি একজন ভালো মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে। যদি সামান্যও সফল হয়ে থাকি, সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, “শান্তি রঞ্জন দেওয়ান স্যার আমাদের বিদ্যালয়ের একটি স্তম্ভ ছিলেন। তার অভিজ্ঞতা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা আমাদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি যে শূন্যতা তৈরি করে যাচ্ছেন, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আমরা তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।”
প্রধান অতিথি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “একজন শিক্ষক কখনো অবসর নেন না। তিনি তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেঁচে থাকেন। শান্তি রঞ্জন দেওয়ান স্যারের মতো শিক্ষকেরা সমাজের আলোকবর্তিকা। তার অবদান দীঘিনালা তথা খাগড়াছড়ির শিক্ষা অঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা বলেন,“শান্তি স্যার আমাদের সন্তানের শুধু পড়াশোনা নয়, নৈতিক শিক্ষাও দিয়েছেন। তার মতো শিক্ষক পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের বিষয়। আমরা তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করি।”
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদায়ী শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এছাড়াও সাবেক শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকেও তাকে সম্মাননা জানানো হয়।
সবশেষে এক হৃদয়স্পর্শী আয়োজনে ফুলেল মালা পরিয়ে ছাদ খোলা গাড়িতে করে পুরো এলাকা প্রদক্ষিণ করিয়ে অত্যন্ত সম্মান ও ভালোবাসার সাথে তাকে বিদায় জানানো হয়।
এই আয়োজন শুধু একজন শিক্ষকের বিদায় নয়, বরং একটি যুগের অবসান এবং একজন নিবেদিত প্রাণ শিক্ষকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

