দেশজুড়ে সরকারি ভবনের ছাদে ৫,০০০ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার স্থাপনের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে খাগড়াছড়িতে প্রচারাভিযান ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম, জাবারাং কল্যাণ সমিতি, ক্লিন ও বিডাব্লিউজিইডি’র যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, সরকারি অবকাঠামোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
প্রচারাভিযানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি সংকট, আমদানি নির্ভরতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের অব্যবহৃত ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সময়োপযোগী ও টেকসই উদ্যোগ হতে পারে। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে, বিদ্যুৎ ব্যয় হ্রাস পাবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সবুজ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বক্তারা আরও জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের সকল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তিন মাসের মধ্যে রুফটপ সোলার স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে। তারা এই পদক্ষেপকে পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-খাগড়াছড়ি জেলার সভাপতি অরুণ কান্তি চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ প্রচারাভিযানে বলা হয়, রুফটপ সোলারের সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় সোলার শিল্প, ইনস্টলেশন খাত, রক্ষণাবেক্ষণ সেবা ও সরঞ্জাম সরবরাহকারী ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একইসঙ্গে গড়ে উঠবে একটি টেকসই সবুজ অর্থনীতি।
জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি অরুণ কান্তি চাকমা এবং সাধারণ সম্পাদক ইখিন চৌধুরী বলেন,
“এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে দেশ পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাবে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তারা আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে এই মহাপরিকল্পনা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে তুলবে।
পরে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি অরুণ কান্তি চাকমা,জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা,সাধারণ সম্পাদক ইখিন চৌধুরী, সদস্য ইউসুফ আদনান, প্রকৌশলী নিতু প্রসাদ চাকমা, গৌরিমালা ত্রিপুরা,, প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বিনোদন ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

