পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তির জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার পাশাপাশি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নিরলসভাবে কাজ করবে।”
সোমবার (১১ মে) দুপুরে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের চেঙ্গী স্কয়ার সংলগ্ন সার্কিট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
প্রথমবারের মতো খাগড়াছড়ি সফরে এসে পার্বত্যমন্ত্রী পাহাড়ের মানুষের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্যাঞ্চলের মানুষ তিন জেলায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করেছে। এই জনসমর্থনের প্রতিদান দিতে সরকার পাহাড়ে টেকসই শান্তি ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।”
তিনি জানান, পাহাড়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি কৃষিপণ্য ও ফল সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার নির্মাণ এবং পর্যটন নগরী সাজেকে যাতায়াত সহজ করতে সড়ক সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা পার্বত্যাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করতে খুব শিগগিরই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স ও পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ড পুনর্গঠন করা হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, মং সার্কেলের চীফ সাচিংপ্রু চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন, পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুল্লাহ আল মাহফুজসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। খাগড়াছড়িতে পার্বত্যমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।

