পার্বত্য চট্টগ্রামে আবারও মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। চাঁদা না পেয়ে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির ১০টি মোবাইল টাওয়ারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে তারা। এতে দুই জেলার লাখো মানুষ মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেছে।
রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ও ছানখোলা এলাকার ৪টি টাওয়ার। পাশাপাশি খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ঝাড়ুলছড়ি, বড়াদম, সাধনাটিলা, বাঘাইছড়ি মূখ, কারবারি পাড়া এলাকায় ৫টি ও মানিকছড়ি উপজেলায় -১টি সহ মোট ১০টি টাওয়ারে হামলা চালানো হয়। এতে সার্ভার রুম, মিটার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগেও, ২২ জানুয়ারি ভোরে একই কায়দায় দুর্বৃত্তরা মোবাইল টাওয়ার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল। পরবর্তীতে গত সোমবার (২৭ জানুয়ারী) থেকে মোবাইল টাওয়ার সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হলেও ২/১ দিনের ব্যবধানে সমস্ত টাওয়ারে আবারও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, মিটার ভাংচুর ও লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা। এতে এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া সহ তাদের নিরাপত্তা সংকটেও পড়েছে সাধারণ জনগণ।
এসব ঘটনায় স্থানীয়ভাবে পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের সম্পৃক্ততার কথা শোনা গেলেও, মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ দেয়নি। এমনকি ক্যামেরার সামনে কথা বলতেও অপরাগতা প্রকাশ করেন মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে, স্থানীয়রা বলছেন, চাঁদার দাবিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এতে শুধু মোবাইল নেটওয়ার্ক নয়, পুরো এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মোঃ নাজির আলম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, নানিয়ারচর থানার।
স্থানীয়রা বলছেন এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শক্ত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয়রা সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অভিযানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হয়।

