নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণিল ও উৎসবমুখর সাইকেল র্যালি। তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের উদ্যোগে ‘১৬ দিনের কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে চেঙ্গী স্কোয়ারে জমে ওঠে প্রাণের এই আয়োজন।
জেলার দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও নারী-শিশুর নিরাপত্তা বিষয়ক এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে অংশ নেন ২০ জন নারী ও কন্যাশিশু। রঙিন পোশাক, সাইকেলের হুইলের ঘূর্ণন আর সমতার প্রতীকে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রুমানা আক্তার। এ সময় তিনি বলেন,“নারী ও শিশুর নিরাপত্তা রক্ষায় শুধু প্রশাসন নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা সবচেয়ে বড় শক্তি। এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ সমাজ বদলের অন্যতম পথ দেখায়।”
তার বক্তব্যে উঠে আসে বর্তমান সমাজের বাস্তব চিত্র, যেখানে সচেতনতার অভাব ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এখনো নারী ও কন্যাশিশুরা শারীরিক, মানসিক ও ডিজিটাল সহিংসতার শিকার হয়। তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিবন্ধকতা রোধে পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ, পাড়া-মহল্লা-সবখানেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
চেঙ্গী স্কোয়ার থেকে রঙিন সাইকেল আর অংশগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত শ্লোগানে র্যালি ঘিরে পথে পথে দেখা দেয় উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা। জেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চেঙ্গী স্কোয়ারে ফিরে আসে। র্যালির পুরো সময়জুড়েই পথচারীরা থমকে দাঁড়িয়ে অংশগ্রহণকারীদের সাহস ও উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। বিশেষ করে কন্যাশিশু অংশগ্রহণকারীদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি নারী ক্ষমতায়নের বাস্তব ছবি উঠে আসে।
নারী নিরাপত্তা প্রচেষ্টার সফল ধারাবাহিকতা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাশ্বতী দেওয়ান, সিনিয়র প্রকল্প ব্যবস্থাপক মিনুচিং মারমা,প্রোগ্রাম ম্যানেজার স্যুুইচিং অং মারমা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নমিতা চাকমাসহ আরও অনেকে।
এ সময় তাঁরা বলেন,”মূলত সমাজের তৃণমূলে নারী ও কন্যাশিশুর চলাফেরা, শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা-সচেতনতা বাড়ানোই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। সাইকেল র্যালির মতো সৃজনশীল কর্মসূচি তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।
অংশগ্রহণকারী এক কন্যাশিশু বলেন, “আমরা চাই সবাই বুঝুক-মেয়েরা পিছিয়ে নেই। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে আমরা আরও বড় স্বপ্ন দেখতে পারি।”

