খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী, টেকসই ও পর্যটকবান্ধব করতে জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে দিনব্যাপী পর্যটন সহায়তা সেবা প্রশিক্ষণ ও কমিটি শক্তিশালীকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় Promoting Gender Responsive Enterprise Development and TVET Systems (ProGRESS), ILO প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে জেলা সদরের পর্যটন মোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফার, পরিবহণকর্মী, হোটেল-রেস্টুরেন্ট উদ্যোক্তা, সাংস্কৃতিক কর্মী, হস্তশিল্পী ও নারী উদ্যোক্তা সহ মোট ৫৫ জন। প্রশিক্ষণে ট্যুর অপারেটর ও গাইড নিবন্ধন, দায়িত্ব ও কর্তব্য, পর্যটক সেবা মান উন্নয়ন, পর্যটনবান্ধব আচরণ এবং নিরাপদ পর্যটন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
দুপুরে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের হলরুমে জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি শক্তিশালীকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা,এ সময় তিনি বলেন,“খাগড়াছড়িতে পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও স্থানীয় সংস্কৃতির সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই পর্যটন গড়ে তুলতে হবে। পর্যটনভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে এলাকার অর্থনীতি ও সেবার মান দুইই উন্নত হবে।”
সভায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, “জেলার পর্যটন উন্নয়ন কমিটিকে অধিকতর সক্রিয় করা এবং কমিটির নিয়মিত সভা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতকে কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।”
উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য তিন জেলার মধ্যে খাগড়াছড়ি পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে আছে। বর্তমানে এটি মূলত সাজেকে যাওয়ার একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই খাগড়াছড়ির নিজস্ব পর্যটন ব্র্যান্ডিং জোরদার করা, সরকারি ও ট্যুরিজম বোর্ডের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পর্যটন স্পটের উন্নয়ন, পর্যটনমুখী অবকাঠামো ও সেবার মান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি বলে আলোচকরা উল্লেখ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্যরা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, হোটেল মালিক ও পর্যটন খাতের যুব উদ্যোক্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সকলেই আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও পর্যটকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

