নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল- ২০২৬) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলার মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের অধীনস্থ দীঘিনালা জোনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পে সকাল থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকদের পাশাপাশি দীঘিনালা জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. শায়খউদ্দীন সাকলাইন রোগীদের আন্তরিকভাবে সেবা প্রদান করেন। সারাদিনব্যাপী আয়োজনে প্রায় এক হাজারের বেশি রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল ও লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং প্রগ্রেসিভ সাউথ। এছাড়া রোটারি ক্লাব অব চিটাগং পোর্ট সিটি, রোটারি ক্লাব অব চিটাগং খুলশী সেন্ট্রাল এবং মংপ্রুসাইন বাহাদুর ফাউন্ডেশনও কার্যক্রমে সহায়তা করে।
ক্যাম্পে উপজেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আগত রোগীদের চোখের বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, আগামী ১৬ মে থেকে ছানি আক্রান্ত প্রায় দুই শতাধিক রোগীকে চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ তাদের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগলেও অর্থাভাবে চিকিৎসা নিতে পারেননি। এই ক্যাম্প তাদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।
দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল আমিন বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় যেখানে চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো কঠিন, সেখানে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করে চলেছে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেই থেমে নেই, বরং পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

