“পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে জুম্ম ছাত্র সমাজ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলুন”এই স্লোগানকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি শহরের মহাজনপাড়া সূর্য্যশিখা ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়। পরে টাউন হলের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে পিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুজন চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমল কান্তি চাকমা বলেন, “দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও আজও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পাহাড়ের মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে। সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে শান্তিচুক্তির অবাস্তবায়িত ধারাগুলো কার্যকর করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুম্ম ছাত্র সমাজকে অধিকার আদায়ের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভূমি ও আত্মপরিচয়ের অধিকার রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”
এ সময় পিসিপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নিশান চাকমা, জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) চট্টগ্রাম মহানগর ইনচার্জ আল কাদেরী জয়, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি শুভ দেবনাথ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি মিরাজ উদ্দিনসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রতিষ্ঠাবাষীর্কির কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের প্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, নারী ও যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ছাড়াও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণী শান্তিচুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন, পাহাড়ের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা-সংস্কৃতি রক্ষার দাবিতে নানা স্লোগান দেন।

