Author: অনুসন্ধান নিউজ
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার তিনটি উপজেলায় কয়েকজন শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা. মো. ছাবের। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার পানছড়ি উপজেলা থেকে ৪ জন, রামগড় উপজেলা থেকে ৪ জন এবং দীঘিনালা উপজেলা থেকে ৩ জন শিশুর মধ্যে হামের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা যায়। এ প্রেক্ষিতে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় রোগতত্ত্ব নির্ণয় বিভাগের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, আক্রান্ত সন্দেহভাজন শিশুরা বর্তমানে নিজ নিজ বাড়িতে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের পুষ্টিকর খাদ্য,…
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ২নম্বর পাতাছড়া ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকাজে চরম ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৯৫০ কিলোমিটার সড়কের ইটের সলিং তুলে কার্পেটিং (বিটুমিনাস) করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিশেষ বরাদ্ধে দরপত্র আহ্বান করলে টেন্ডারের মাধ্যমে খাগড়াছড়ির এমএস রিফ এন্টারপ্রাইজ ও ইমু এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি দুই ভাগে বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। অভিযোগ উঠেছে, তবে কাজ শুরুর পর থেকেই সড়কটির নির্মাণ কাজ নিয়ে নানা অভিযোগ…
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দলের এক নেতা নিহত হয়েছেন। নিহত নীতি দত্ত চাকমা (পোস্ট পরিচালক, পানছড়ি) শুক্রবার (২৭ মার্চ- ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে এ ঘটনায় নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, পানছড়ি উপজেলার বিজু মেলা পয়েন্ট সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা ৫-৬ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলাকারীরা সিভিল পোশাকে ছিল এবং তাদের মুখ বাঁধা ছিল। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পানছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি সদর জিরোমাইল এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে…
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটিতে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। আজ রোববার (২২ মার্চ) তিনি সেখানে যান। পরিদর্শনকালে, তিনি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত সেনা সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশলাদি বিনিময় করেন। এ সময় তিনি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা ও নিরলস প্রচেষ্টার জন্য আন্তরিক সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও একইভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। সফরকালে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এডজুটেন্ট জেনারেল; জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া; সেনাসদর ও সংশ্লিষ্ট এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সেনা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কমল কৃষ্ণ দে, মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা: ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতেই পাহাড়ের ঢালে ও বিস্তৃত ফসলি মাঠে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য সূর্যমুখী ফুলের হলুদের সমারোহ যে কারো নজর কাড়বে। কম খরচে অধিক লাভে সূর্যমুখী চাষ পাহাড়ের কৃষকরা যেমন লাভবান হবে তেমনি গ্রামীন অর্থনীতিতে ও গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রাখতে পারে। ষঢ়ঋতুর দেশ আমাদের বাংলাদেশ। ঋতু চক্রের আবর্তে এখন বসন্ত কাল। প্রকৃতি নতুন রূপে সাজে ফুটে ওঠে নানা রঙের ফুল । কোকিলের কুহুতান আর মৃদু সমীরনে ভেসে আসে ফুলের সৌরভ। আধো আধো শীত গরমে আলো-ছায়ার খেলায় চারিদিক ভরে উঠে ফুলর পাপড়িতে। প্রকৃতির এই রঙিন পরিবর্তনে পাহাড় জেগে উঠে নব যৌবনে। সূর্যমুখী মূলত একটি…
আল আমিন, পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির পানছড়িতে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে পানছড়ি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফরহানা নাসরিন। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: অনুতোষ চাকমাসহ উপজেলার বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রধানগন উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা নাসরিস বলেন, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে আজকের এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হলো যা সপ্তাহের প্রতি শনিবার চলমান থাকবে। প্রতিটা নাগরিক তাঁর বাসস্থান, আঙিনা ও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাদের নিজস্ব অফিস প্রাঙ্গন পরিচ্ছন্ন রাখবে যাতে আমরা মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ করতে পারি।
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বড়বিল এলাকায় রান্নাঘর থেকে রাম্রা মারমা (৪১) নামের এক স্বামী পরিত্যক্তা নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বড়বিল এলাকায় ওই নারীর নিজ বাড়ির রান্নাঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। রাম্রা মারমা তিন পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জননী। নিহতের মেয়ে আনুমা মারমা বলেন, সোমবার (৯ মার্চ) রাত ১০ টার দিকে আনুমা ও তার মা রাম্রা মারমা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন নিজ শয়নকক্ষে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তার মাকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রান্নাঘরের বিছানায় কম্বল মুড়ি দেয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে…
আল আমিন, পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের অসহায় দিনমজুর মো. সিরাজুল ইসলামের পাশে দাঁড়িয়েছে এলাকার যুবসমাজ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে একটি টিনসেড ঘর। সিরাজুল ইসলাম সীমিত আয়ের কারণে কষ্ট করে একটি মাটির ঘর তৈরি করেছিলেন। তবে ভালো মাটি ও পর্যাপ্ত পানির অভাবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হঠাৎ ঘরটি ধসে পড়ে। এতে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে বিপাকে পড়ে তার পরিবার। ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় যুবক মো. নূর ইসলামের উদ্যোগে এলাকার যুবসমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা সংগ্রহ করা হয়। সবার সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই নির্মাণ করা হয় একটি নতুন টিনসেড ঘর। সোমবার (৯…
আল আমিন, পানছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির পানছড়িতে প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার (দুপুর) পানছড়ি সদর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বড়কোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইউপিডিএফ সদস্য আপন ত্রিপুরা ওরফে সংগ্রাম (২৮) পানছড়ি উপজেলার মরাটিলা পদ্মিনীপাড়া গ্রামের মৃত কিরণ মুনি ত্রিপুরার ছেলে। ইউপিডিএফের প্রচার বিভাগের মুখপাত্র নিরন চাকমা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানান, সাংগঠনিক কাজে বড়কোনা এলাকায় গেলে আগে থেকে অবস্থান করা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা তাকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ইউপিডিএফ সংগঠক অংগ্য মারমা। পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস…
পার্বত্য চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান স্বাধীন বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে নানা রাজনৈতিক দাবি, আঞ্চলিক বৈষম্যের প্রশ্ন এবং সশস্ত্র আন্দোলনের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চল অস্থিরতার মধ্যে ছিল। বিশেষ করে ১৯৭০-৮০ এর দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পেলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হয়। এই প্রেক্ষাপটে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনী কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, যার মধ্যে অপারেশন ট্রাইডেন্ট, অপারেশন দাবানল, অপারেশন পাঞ্চিং টাইগার এবং বর্তমানে চলমান অপারেশন উত্তরণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব অভিযান শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং…
