খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মহালছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত পাহাড়ি ও বাঙালি জনগণের জন্য দিনব্যাপী বিশেষ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে- ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত মহালছড়ি উপজেলার শিশু মঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং মহালছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে লায়ন্স ক্লাবের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ও রোটারি ক্লাব।
ক্যাম্পে অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞরা রোগীদের চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ, বিনামূল্যে চশমা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করেন। আয়োজকদের তথ্যমতে, চক্ষু চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন মোট ৫৬৮ জন। এর মধ্যে ২৯৬ জন পাহাড়ি ও ২৭২ জন বাঙালি রোগী ছিলেন। এছাড়া অন্যান্য রোগের চিকিৎসা নেন আরও ৪৫৭ জন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫০৪ জন নারী, ৪২৬ জন পুরুষ ও ৯৫ জন শিশু ছিলেন।
চিকিৎসা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১০০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আরও ১২৭ জন রোগীকে পরবর্তীতে চশমা ও ঔষধ প্রদানের জন্য নিবন্ধন করা হয়েছে। গুরুতর চক্ষু সমস্যায় আক্রান্ত ১৭৪ জন রোগীকে ছানি অপসারণসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের জন্য চট্টগ্রামের লায়ন্স হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে মহালছড়ি জোনের পক্ষ থেকে ৪৩৮ জন রোগীর পরিবহন সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়।
চিকিৎসা কার্যক্রমে মহালছড়ি জোনের মেডিকেল অফিসারের পাশাপাশি মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশ নেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মহালছড়ি জোনের জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ (পিএসসি), মেজর মিনহাজুল আবেদীন চৌধুরী, আরএমও ক্যাপ্টেন বোরহান উদ্দিন বায়েজিদ, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কুমার সইচিংপ্রু সাইন, রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং পোর্ট সিটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. সাজেদুল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা।
মহালছড়ি জোনের আরএমও ক্যাপ্টেন বোরহান উদ্দিন বায়েজিদ বলেন, “দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। পাহাড়ি ও বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই উদ্যোগকে সফল করেছে।”
সেবা গ্রহণকারী রোগীরা জানান, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী। স্থানীয়দের মতে, মহালছড়ি জোনের মানবিক কর্মকাণ্ড পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।

