প্রকৃতি যতই প্রতিকূল হোক, খাগড়াছড়ির তরুণ প্রজন্মের উদ্যমকে থামানো যায় না, এরই জীবন্ত প্রমাণ হয়ে উঠেছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর তৃতীয় দিনের আয়োজন। মেঘে ঢাকা আকাশ, থেমে থেমে বৃষ্টির শঙ্কা আর কাদামাখা মাঠ,সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক অনন্য ক্রীড়া-উৎসবের আবহ।
দিনভর মাঠে ছিল প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ক্ষুদে খেলোয়াড়দের দাপট, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর প্রতিটি মুহূর্তে টানটান উত্তেজনা। যেন প্রতিটি পাস, প্রতিটি গোল, প্রতিটি আক্রমণ নতুন করে লিখছিল পাহাড়ের ক্রীড়া ইতিহাস।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় জেলার ৯টি উপজেলা ও ১টি পৌরসভার বালক-বালিকা দল অংশ নেয়। তৃতীয় দিনের ফুটবল ইভেন্টে অনুষ্ঠিত হয় দুইটি হাড্ডাহাড্ডি সেমিফাইনাল, যেখানে উত্তেজনার রেশ ছড়িয়ে পড়ে শেষ বাঁশি পর্যন্ত।
প্রথম সেমিফাইনালে খাগড়াছড়ি পৌরসভা বালক দলকে টাইব্রেকারে ১-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে দীঘিনালা উপজেলা বালক দল। অন্য সেমিফাইনালে সমানতালে লড়াই শেষে টাইব্রেকারে ৫-৬ গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা বালক দল, নিশ্চিত করে নিজেদের ফাইনাল যাত্রা।
বালিকা বিভাগের খেলাগুলোতেও ছিল একই রকম উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রথম সেমিফাইনালে মহালছড়ি উপজেলা বালিকা দলকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে গুইমারা উপজেলা বালিকা দল। অপর ম্যাচে লক্ষীছড়ি উপজেলা বালিকা দলকে টাইব্রেকারে ২-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পায় খাগড়াছড়ি উপজেলা বালিকা দল।
এদিকে ফুটবলের পাশাপাশি কাবাডি ইভেন্টেও দিনভর ছিল উৎসবমুখর প্রতিযোগিতা। সকাল থেকেই জেলার ৯টি উপজেলা ও ১টি পৌরসভার বালক ও বালিকা মিলিয়ে মোট ২০টি দল মাঠে নামে। শক্তি, কৌশল আর দারুণ সমন্বয়ে প্রতিটি ম্যাচই ছিল দর্শকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
কাবাডির বালক বিভাগের ফাইনালে খাগড়াছড়ি উপজেলা দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে দীঘিনালা উপজেলা বালক দল। অন্যদিকে বালিকা বিভাগে রামগড় উপজেলা দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় গুইমারা উপজেলা বালিকা দল।
ফাইনাল খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় এক আনন্দঘন পরিবেশে। জেলা ক্রীড়া অফিসার হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ।
এ সময় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দুর্জয় গোস্বামী, মাহফুজ-উল-শাকিক, ক্রীড়া সংগঠক মো. নজরুল ইসলাম, বিসিবি কাউন্সিলর আনিসুল আলম আনিক, ক্রীড়া সংগঠক মাদল বড়ুয়াসহ ক্রীড়াঙ্গনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সব মিলিয়ে, বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ শুধু একটি টুর্নামেন্টেই সীমাবদ্ধ থাকেনি,এটি পরিণত হয়েছে পাহাড়ি জনপদের তরুণদের স্বপ্ন, সাহস এবং সম্ভাবনার এক অনন্য মঞ্চে। এখানে প্রতিটি ঘামঝরা মুহূর্ত যেন বলে দেয়,প্রতিবন্ধকতা যতই থাকুক, জয় ছিনিয়ে আনার ইচ্ছাশক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি।

