খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় ও গুইমারা উপজেলাকে প্রসবজনিত ফিস্টুলামুক্ত করার লক্ষ্যে ১৫ দিনব্যাপী বিশেষ সনাক্তকরণ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। ৬ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলমান এ কর্মসূচি ২০২৬ সালের মধ্যে উপজেলা দুটিকে ফিস্টুলামুক্ত ঘোষণার লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রামগড় ও গুইমারা—উভয় উপজেলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে পৃথকভাবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন শেষে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর আর্থিক সহায়তা এবং সিআইপিআরবি (CIPRB)-এর কারিগরি সহযোগিতায় Sexual, Reproductive, Maternal, Newborn, Child and Adolescent Health (SR-MNCAH) প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য বিভাগের HI, AHI, HA, CHCP এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের FWV, FWA, FPI কর্মীরা যৌথভাবে সম্ভাব্য ফিস্টুলা রোগী শনাক্তে কাজ করছেন।
দীর্ঘ সময় প্রসব ব্যথা, অল্প বয়সে মাতৃত্ব, ঘন ঘন সন্তান জন্মদান বা জটিল প্রসবের কারণে অনেক নারী ফিস্টুলায় আক্রান্ত হন। এ রোগে আক্রান্ত নারীরা অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রস্রাব বা মল নির্গমনের সমস্যায় ভোগেন, যা তাদের শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে তোলে। অনেকেই বিষয়টি গোপন রাখেন এবং নীরবে দুর্বিষহ জীবনযাপন করেন।
ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া সন্দেহভাজন রোগীদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। সেখানে গাইনি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টারে রেফার করা হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এ চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যেই রামগড় ও গুইমারাকে ফিস্টুলামুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে এ উদ্যোগকে একটি সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

