“পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে চীন: পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবপাচার প্রতিরোধে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ও নীতিগত ঘাটতি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বিদেশে, বিশেষ করে চীনে মানবপাচার প্রতিরোধে সামাজিক-অর্থনৈতিক কারণ ও নীতিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গবেষণা ফলাফল যাচাইকরণ কর্মশালা।
রোববার (২৬ এপ্রিল) খাগড়াছড়ি জেলা সদরের তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার (টিইউএস) কার্যালয়ের আশীষ হলরুমে “Research Findings Validation Workshop” শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)-এর আওতায় তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার এম্পাওয়ারমেন্ট প্রজেক্ট।
এ কর্মশালাটি সুইজারল্যান্ড, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এ কর্মশালায় গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এতে পার্বত্য অঞ্চলে মানবপাচারের পেছনের সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অবস্থা, পাচারকারীদের কৌশল এবং বিদ্যমান নীতিমালার সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মানবপাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা উন্নয়ন এবং সময়োপযোগী ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, সীমিত কর্মসংস্থান এবং আর্থ-সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জকে কাজে লাগিয়ে মানবপাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ ধরনের গবেষণা, সংলাপ ও কর্মশালা মানবপাচার প্রতিরোধে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য জয়া ত্রিপুরা, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুষ্মিতা খীসা, কনসালট্যান্ট মো. জাহেদ হাসান, আলো’র নির্বাহী পরিচালক অরুণ কান্তি চাকমা, জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী কর্মকর্তা মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা,তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা মিনুচিং মারমা,তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাশ্বতী দেওয়ান-সহ উন্নয়নকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন।
মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ ও গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপদ ও সচেতন সমাজ গঠনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।

