খাগড়াছড়ি জেলায় অনুষ্ঠিত প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট প্রতিযোগিতা ২০২৫-২৬ এর ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান জমজমাট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। রুদ্ধশ্বাস এই ফাইনালে দুর্দান্ত দলীয় পারফরম্যান্সে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইন্স স্কুল।
ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইন্স স্কুল ও খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পুলিশ লাইন্স স্কুল ৪৭.৩ ওভারে ১৯১ রানে অলআউট হয়। তবে এই ইনিংসের মূল ভরসা ছিলেন দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার সাইফাত, যিনি ১২৭ বল মোকাবেলা করে অসাধারণ ১০২ রানের দৃষ্টিনন্দন সেঞ্চুরি তুলে নেন। তার এই ইনিংসই দলের সংগ্রহকে লড়াইযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে যায়। ক্যান্টনমেন্ট দলের পক্ষে সমুদ্র ও আসিফ ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।
১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ক্যান্টনমেন্ট দল। পুলিশ লাইন্স স্কুলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে তারা কখনোই ম্যাচে ফিরে আসতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে হারাতে ৪১.৩ ওভারে ১১৯ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন সাকিব। অপরদিকে, পুলিশ লাইন্স স্কুলের রাহাত ৪টি এবং মেহেদী ৩টি উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। ফলে ৭২ রানের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শিরোপা জিতে নেয় পুলিশ লাইন্স স্কুল।
ফাইনালে অনবদ্য সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন সাইফাত। পুরো টুর্নামেন্টেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১৯৬ রান করে তিনিই হন সেরা রান সংগ্রাহক। অন্যদিকে, ১২টি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা বোলার নির্বাচিত হন পুলিশ লাইন্স স্কুলের মো. রাহাত।
খেলা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও নৈতিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি। নিয়মিত খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বগুণ, দলগত চেতনা এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় সম্পৃক্ততা তাদের জীবনকে পরিপূর্ণতা দেয় এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করে।
তিনি আরও বলেন, ক্রিকেট আজ বাংলাদেশের গর্বের প্রতীক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অর্জন তরুণদের অনুপ্রাণিত করছে। খাগড়াছড়ির মতো পার্বত্য অঞ্চল থেকেও প্রতিনিয়ত নতুন প্রতিভা উঠে আসছে, যা জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। শুধু ক্রিকেট নয়, খাগড়াছড়ির মেয়েরাও ফুটবলে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করছে। এসব সাফল্য প্রমাণ করে, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে এই অঞ্চলের তরুণ-তরুণীরা আরও বড় পরিসরে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম।
তিনি ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ও তরুণদের জন্য আরও প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খাগড়াছড়িকে একটি শক্তিশালী ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ,জেলা ক্রীড়া সংগঠক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা’র এডহক কমিটির সাবেক সদস্য মো. নজরুল ইসলাম, বিসিবির কাউন্সিলর আনিসুল আলম আনিক, ক্রীড়া সংগঠক মাদল বড়ুয়া, জেলা ক্রিকেট কোচ মুজাহিদ চৌধুরী বাবু এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।
টানটান উত্তেজনায় ভরপুর এই ফাইনাল ম্যাচে পুলিশ লাইন্স স্কুলের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের সমন্বিত নৈপুণ্যই তাদের শিরোপা জয়ের মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে সাইফাতের দায়িত্বশীল সেঞ্চুরি এবং রাহাত-মেহেদীর বিধ্বংসী বোলিং ক্যান্টনমেন্ট দলের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ম্যাচের গতিপথ একতরফা করে দেয়।

