শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্কুল ব্যাগ নিয়ে বিদ্যালয়ে হাজির হলেন ইউএনও। এতে কোমলমতি প্রতিটি শিশু শিক্ষার্থীর মুখে উচ্ছাসের হাসি আর মনে অপার আনন্দ ফুটে উঠে। ইউএনওর হাত থেকে স্কুলব্যাগ উপহার পেয়ে সকলে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারী) সকালে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামীম উপজেলার ১ নম্বর রামগড় ইউনিয়নের দুর্গম ২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১ টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২শত ৫০ জন কোমলমতি শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেন নতুন স্কুল ব্যাগ। এসময় আরো ২ টি বিদ্যালয়ে খেলাধূলা সামগ্রি উদ্বোধন করেন।
উপজেলার ১ নম্বর রামগড় ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের সহযোগীতায় পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী পোগ্রামার রেহান উদ্দিন এর সভাপতিত্বে বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি থেকে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম। এসময় রামগড় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো: মিজানুর রহমান সহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী পোগ্রামার রেহান উদ্দিন জানান, রুপাইছড়ি, হাতিরখেদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অন্তুপাড়া জুনিয়র হাই স্কুলের ২শত ৫০ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ এবং থানাচন্দ্রপাড়া ও নতুনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলনা সামগ্রির উদ্বোধন ও খাগড়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন সহায়তা পরিদর্শন করা হয়।
নতুন স্কুল ব্যাগ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তানজিনা বলেন, ‘আমার পুরনো ব্যাগ ছিঁড়ে গিয়েছিল। আজ নতুন ব্যাগ পেয়েছি। খুব ভালো লাগছে।’
এদিকে, অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক। তারা জানান, গ্রামে অনেক পরিবারই দরিদ্র। স্কুল ব্যাগ বা টিফিন বক্স কেনা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না। ইউনিয়ন পরিষদের এই উদ্যোগে তাদের সন্তানরা নতুন উদ্যমে স্কুলে যাবে।
হাতিরখেদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মন্নান বলেন,’এই সহায়তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি করেছে। আগে কেউ কেউ ছেঁড়া ব্যাগ নিয়ে আসত, অনেকের স্কুল ব্যাগও ছিলোনা। এখন তারা গুছিয়ে স্কুলে আসতে পারবে।
বিতরণকালে ইউএনও কাজী শামীম বলেন, শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে এবং পড়ালেখায় আগ্রহ বাড়াতে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, কেউ যেন শুধু অভাবে স্কুলছুট না হয়।
তিনি আরও বলেন’ প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের স্কুল জীবন শুরু হয়। প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতেই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। শিক্ষা উপকরণ বিতরণের এই উদ্যোগ একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত আকারে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

