খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবীন বরণ, বিদায় ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ। শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ গঠনের দীপ্ত প্রত্যয়ে খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে নবীন বরণ, বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও প্রধান শিক্ষকের বদলজনিত বিদায় অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দিনব্যাপী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আনন্দ, আবেগ ও প্রেরণার অনন্য সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। রঙিন সাজসজ্জা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে ওঠে এক মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাতের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন,
“খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি পাহাড়ের মেয়েদের স্বপ্ন গড়ার কারখানা। এখান থেকেই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,“নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় এই বিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। সরকারের পাশাপাশি অভিভাবক ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন,“একজন শিক্ষকের বিদায় মানে শুধু একটি পদ পরিবর্তন নয়,এটি একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। প্রধান শিক্ষক মো. ফখরুল ইসলাম তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুমানা আক্তার, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম।
বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো. ফখরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন,“এই বিদ্যালয় আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শিক্ষার্থীদের সাফল্যই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”
অনুষ্ঠানে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং বার্ষিক পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও অভিভাবকদের গর্বিত মুখ পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রানু চাকমা, সিনিয়র শিক্ষক চম্পানন চাকমাসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
সুশৃঙ্খল আয়োজন, হৃদয়ছোঁয়া বক্তব্য ও শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

