পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক অনন্য ভূখণ্ড। যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি নানা জটিল সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান। একদিকে পাহাড়ি দুর্গম ভৌগোলিক পরিবেশ, অন্যদিকে সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতার চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শুধু সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও সেনাবাহিনী হয়ে উঠেছে পাহাড়ে বসবাসরত মানুষের আস্থার প্রতীক।
সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল, সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পাহাড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চলেছে। এর ফলে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি সেনারা দুর্গম এলাকায় চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, গাছের চারা বিতরণসহ নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
এছাড়া পাহাড়ে কৃষি ও পশুপালনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজনের মাধ্যমে সেনাবাহিনী সামাজিক উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেনাবাহিনী আজ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী শুধু পাহাড় রক্ষার প্রহরী নয়, বরং মানুষের আস্থা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের এক বিশ্বস্ত অংশীদার।
_এম মহাসিন মিয়া, সাংবাদিক ও লেখক, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা

