মাইনী নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ী জনপদ নাড়াইছড়ি বাজার। ইতিমধ্যে বাজারের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গনরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা না হলে পুরো বাজারটি মাইনী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশংকা করছেন, বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এ নাড়াইছড়ি বাজারের অবস্থান।
বাজারটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে নিত্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও নিজেদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বেচাবিক্রি করার ক্ষেত্রে বিপাকে পড়বে স্থানীয়রা। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম এই পাহাড়ী জনপদে ছোট-বড় ১৭ টি গ্রামের মানুষের বসবাস। তাই জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গনরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের। বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ইতিমধ্যে বাজারের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় যেকোনো মুহুর্তে পুরো বাজারটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় গ্রাম প্রধান অনিল চন্দ্র চাকমা জানান, এ বাজারটি ছাড়া এ অঞ্চলে আর কোনো হাট-বাজার নেই। ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের বাবুছড়া বাজারে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে যাতায়াত করতে প্রতিজনকে ৬০০ থেকে ৭০০ শত টাকা ভাড়া গুনতে হয়। কৃষিপণ্য পরিবহন তো আরো ব্যয়বহুল। তাই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এ অঞ্চলের ছোট-বড় ১৭ টি গ্রামের মানুষের কেনাকাটা এবং নিজেদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বেচাবিক্রির একমাত্র ভরসা এই নাড়াইছড়ি বাজার। ভাঙ্গনরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানিয়ে তিনি আরও জানান, ‘বাজারটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে এ অঞ্চলের মানুষকে সীমাহীন কষ্টে দিন কাটাতে হবে।’
এ বিষয়ে বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা জানান, ‘মাইনী নদীর ভাঙ্গনের হাত থেকে নাড়াইছড়ি বাজারটি রক্ষা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে উর্ধতন কতৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। অদ্যাবধি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। তাই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ী জনপদে বসবাসরত মানুষের কথা বিবেচনা করে জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গনরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানান তিনি।’

